বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
মোঃ ফারুক, পেকুয়া :
পেকুয়া উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর হাত ও বাম পা ভেঙে দিয়েছে সংঘবদ্ধ দূর্বূত্তরা। ছাত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ভাই, চাচাসহ এক শিশুর উপরও হামলা চালিয়েছে দূর্বূত্তরা। হামলায় আহত ওই ছাত্রীর নাম নিশাত সোলতানা (১৮)। সে মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং ডলইন্যা পাড়া গ্রামের মোঃ আব্বাছে মেয়ে। তাকেসহ অপরাপর আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত ৯ মে সকালে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ডলইন্যা পাড়া গ্রামে উক্ত ঘটনাটি সংগঠিত হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত ছৈয়দ নুরের ছেলে ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে একদল লোক গত এক মাস ধরে ইঞ্জিন চালিত নৌকাদ্বারা বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে চোরাই পথ ব্যবহার করে কুতুবদিয়ায় আনা নেওয়ার কাজ করছিল। মগনামাঘাটে প্রশাসনের নজরদারি থাকায় মগনামা ডলইন্যা পাড়া পয়েন্টে দিয়ে কুতুবদিয়ায় গণহারে লোকজনকে প্রবেশ করিয়ে দিতো। এর বিনিময়ে ফরিদুল আলম গং প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতো। এসব যাত্রীদেরকে ওই ছাত্রীর বাড়ীর উপর দিয়ে পারাপারের জন্য নিয়ে যেতো। ঘটনার দিন ছাত্রীর পরিবার তাদের বাড়ির উপর দিয়ে বাইরের এলাকার মানুষের যাতায়াত বন্ধ করতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ফরিদুল আলম গং।
এ নিয়ে ছাত্রীর পরিবার ও ফরিদুল আলম গংদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে মো: মনির, আবদুল হালিম, মো: হাসান, মো: বেলাল উদ্দিন, আবুল কালাম ও আবদু ছমদসহ আরো কয়েকজন লোক দশম শ্রেণীর ছাত্রী নিশাত সোলতানার উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিশাতের হাত ও বাম পা ভেঙে দেয়। এসময় হামলার কবল থেকে নিশাতকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে চাচা মাহাদু, তার শিশুপুত্র হাফেজ রণি, নিশাতের ভাই এনামকেও পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আহতদের উদ্ধার করে পেকুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত ছাত্রীর পিতা মো: আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, ফরিদুল আলমের নেতৃত্বে আমার মেয়ের হাত ও বাম পা ভেঙে দিয়েছে তারা। মেয়ে এখন হাসপাতালে কাতারাচ্ছে। এ ঘটনার জের ধরে তারা ভাড়াটি সন্ত্রাসী পশ্চিমকূল এলাকার আনিছ ও ইউনুছকে সাথে নিয়ে আমি যেখানে জাল বসায় সেখানে গিয়ে চাঁদাদাবী শুরু করে। চাঁদা না দিলে সাগরে জাল বসাতে দিবেনাও বলে হুমকি দেন। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
অপরদিকে ১০ম শ্রেণীর ছাত্রীর উপর ন্যাক্করজনক হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আজ ১১ মে বিকালে মগনামায় মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষনা দিয়েছিল মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্রীর পরিবারকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। দুইপক্ষকে সাখে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে তা সমাধা করে দেয়া হবে।
ভয়েস/জেইউ।